তারাতলায় ছত্রিশ রকমের শব্দবাজি পরীক্ষা করল পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা

display_of_fireworks_at_bazi_bazar_2015_kolkata
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা – পর্ষদ,লালবাজার চায় বাজির শব্দমাত্রা থাক ৯০ এর কোটায়,বাজি প্রস্তুতকারকদের দাবি,অন্যান্য রাজ্যের মত এ রাজ্যেও মানা হোক ১২৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা,জল্পনা তুঙ্গে।

কালীপুজোর আগে ছত্রিশ রকমের শব্দবাজি মাত্রা পরীক্ষা করে দেখল দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ,পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা।ছিলেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরাও।মঙ্গলবার দুপুরে তারাতলায় এই পরীক্ষা শিবির হয়।দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিশেষ যন্ত্রের(সাউন্ড লেবেল মিটার)মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা মূলত এ দিন শব্দমাত্রা যাচাই করেন।বাজির তালিকায় ছিল চকলেট বোম,কালীপটকা,আমড়াআটি,বিভিন্ন প্রকার দোদোমা,সিঙ্গিং বার্ড,(হান্ড্রেড শটস),অ্যাংরি বার্ড,কারগিল রাইডার,মিনি মিনি,অডি,ব্লেসিং স্পারকের মতো রকমারি শব্দবাজি।বিশেষজ্ঞরা মূলত এ দিন এই ধরনের শব্দবাজি গুলির শব্দ যাচাই করেন।
শব্দবাজি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি(রিজার্ভ ফোরস) অশেষ বিশ্বাস সহ দমকল,পর্ষদ,রাজ্য পুলিশ আধিকারিক ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও বাজি প্রস্তুতকারক সংগঠনের শীর্ষ উদ্যোক্তারা।বেশ কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থা, সংগঠন ও বিক্রেতাদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়।প্রত্যেককেই বলা হয় মূলত শব্দবাজির নমুনা নিয়ে আসার জন্য।সেগুলিই এই দিন পোড়ানো হয় বিশেষজ্ঞদের সামনে। সূত্রের খবর প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা হওয়া শব্দবাজি গুলির মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি বাজি বাতিল করা হয়েছে। নির্ধারিত শব্দমাত্রার ওপরে আওয়াজ সৃষ্টিকারী বাজিগুলি বিক্রি করা যাবে না।সে বিষয় স্পষ্ট জানিয়েছে পুলিশ কর্তারা।এ ব্যাপারে ডিসি(রিজারভ ফোরস)অশেষ বিশ্বাস জানান,দুর্গাপুজোর আগে থেকেই নিষিদ্ধ বাজি আটক করার কাজ শুরু হয়েছে।গোটা কলকাতা থেকে শুধুমাত্র শেষ এক সপ্তাহেই ২০০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয় নি। দফায় দফায় অভিযান চলছে।
এ দিকে মঙ্গলবারই লালবাজার ও হাওড়া কমিশনারেট সূত্রে খবর,হাওড়া উত্তর চব্বিশ পরগনা,দক্ষিন চব্বিশ পরগনা,হুগলী জেলার এস পি ও পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক হয়েছে।নিষিদ্ধ বাজি আটক সহ শহরে যাতে কোনো ভাবেই শব্দ বাজি প্রবেশ অরতে না পারে তার জন্য কলকাতার আশেপাশে জেলা পুলিশ ও যাতে উদ্যোগী হয় তাই নিয়েই আলোচনা হয় এই দিন।সূত্রের খবর হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় বাজি বাজার করবার ব্যাপারে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।
লালবাজার সূত্রে খবর,কোনো মতেই বাজারে মাত্রাতিরিক্ত শব্দবাজি বিক্রি করতে দেওয়া যাবে না। পর্ষদ ও পুলিশের অনুমোদন ছাড়া কোনো বাজি বিক্রিও করা যাবে না।প্রতিবারই শহরে শব্দবাজি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। শব্দবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অনেকেই প্রাণ খুইয়েছেন,নানা ভাবে নিগৃহীত হয়েছেন,এমনও নজির  রয়েছে।এই সব বিষয় মাথায় রেখেই শব্দ দূষন রোধে কলকাতা পুলিশ উদ্যোগী হয়েছে।আগামী ২৩,২৪ অক্টোবর তারিখে কলকাতার সংগঠিত বাজি বাজারের সূচনা হবে শহিদ মিনারে,টালা পার্কে নর্থ ডিভিশন বাজিবাজার,যাদবপুর সাউথ ডিভিশন বাজিবাজার।বেহালা এবং বিজয়গড়ে সাউথ ওয়েষ্ট ডিভিশন বাজিবাজার এবং বজবজ বাজি বাজার।
এই বাজারগুলোতে পুলিশ ও পর্ষদের অনুমোদন প্রাপ্ত বাজিগুলি ই বিক্রি করা যাবে।এ ব্যাপারে বাজি প্রস্তুতকারক উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান বাবলা রায় জানান,”আমরা পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী বাজি বাজারগুলোতে বাজি করব।“তবে তিনি আরো বলেন,’বেশ কয়েক বছর ধরে শব্দ বাজির শব্দ মাত্রা কত হবে তা নিয়ে তরজা চলছে।ন্যাশানাল গ্রীন টাইব্যুনালের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হলে সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশকেই মেনে চলবার কথা বলা হয়েছে।বিষয়টি এখনো বিচারাধীন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s