‘জাগো হুয়া সবেরা’-র  প্রদর্শনী বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ

479c719aaed2801bda861dba1bd48cae

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৮ অক্টোবর – আগামী মুম্বই চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জাগো হুয়া সবেরা’-র  প্রদর্শনী বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করছে সারা ভারত শান্তি ও সংহতি সংস্থার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানে নির্মিত হয়েছে বলেই নাকি সিনেমাটি দেখানো য় বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানে নির্মিত আখতার জে কারদার (১৯২৬-২০০২) পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজ সচেতন চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ‘জাগো হুয়া সবেরা’  ১৯৫৯ সালে অনুষ্ঠিত মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হলেও, তৎকালীন পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসককুল ‘জাগো হুয়া সবেরা’-কে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি। বার বারবার তারা এর প্রদর্শনী ঠেকাতে চেয়েছে।

_pak_film_jago_3533

কলকাতার মানুষের বিশেষ অনুভূতি রয়েছে এই চলচ্চিত্র সম্পর্কে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’-র কাহিনী  অবলম্বনে এই ছবি নির্মিত।  এই ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন তৃপ্তি মিত্র।  ‘জাগো হুয়া সবেরা’-র  অন্যতম কুশীলব শান্তি চট্টোপাধ্যায় সত্যজিত রায়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজে বহুবিধ ভূমিকায় সহযোগী হিসেবে  যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন তরুণ মজুমদারের সঙ্গেও। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন  বিশেষত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের আর এক অবিস্মরণীয় নাম তিমির বরণ।

ছবির প্রধান পুরুষ চরিত্রের অভিনেতা আতাউর রহমান প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অভিনেতা, পরিচালনা, সঙ্গীতকার, গায়ক অন্যতম স্মরনীয় ব্যক্তিত্ব। ‘জাগো হুয়া সবেরা’-র সহকারী পরিচালক জহির রায়হান এবং তাঁর দাদা  বিখ্যাত লেখক শহিদুল্লা কায়সার দু’জনেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ।

‘জাগো হুয়া সবেরা’-র পরিচালক আখতার জে কারদারের ভাই আবদুর রশিদ কারদার’ও ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক উল্লেখযোগ্য নাম। ১৯৩০-র দশকে আবদুর রশিদ কারদার কলকাতায় চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৯ সালে মুম্বাইয়েই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

‘জাগো হুয়া সবেরা’-র মতো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছবির প্রদর্শনী বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতার উপর আক্রমণ। এভাবে এছবির প্রদর্শনী বন্ধ হলে সমগ্র বিশ্বে আমাদের দেশ এবং দেশের চলচ্চিত্র জগত সম্পর্কে  নেতিবাচক ধারণাও  তৈরি হবে।

দেশের চলচ্চিত্র জগতে এজাতীয় নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের সংবেদনশীল মানুষকে প্রতিবাদে মুখর হবার জন্য এ আই পিঁ এস ও-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে আজ এই আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনে বলে হয়েছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারবারিদের কাছে আত্মসমর্পন না করে এই ছবি প্রদর্শন করা হোক।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s